অধ্যক্ষের বাণী

আমাদের এই ঐতিহ্য মন্ডিত কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতিকে সার্বিক সেবা প্রদান করুক এই আমদের কামনা। আজকের এই কলেজটি অদূর ভবিষ্যতে একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়ে নারী শিক্ষা ক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা রাখবে এটি আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। আমদের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও শুভানুধায়ীদেরকে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য সুবিধা দিতে পারার আশাবাদ ব্যক্ত করছি। এ কলেজের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটুক, মহান আল্লাহ্'র কাছে এই কামনা করি।

উপাধ্যক্ষের বাণী

দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ, দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্নাতক (সম্মান) পযর্ন্ত পাঠদান কারী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার প্রবল সুযোগ রয়েছে। সম্ভাবনাময় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার সমূহ উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। উত্তর জনপদের এ প্রতিষ্ঠানটির সাথে সংশ্লিষ্ট অত্র অঞ্চলের সকলের প্রতি রইল প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

Visitor Counter

free website counter

BNCC

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC)

বি.এন.সি.সি. বা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের মূল মন্ত্র হচ্ছে জ্ঞান, শৃঙ্খলা আর একতা । বি.এন.সি.সি-এর সোল্ডার ব্যাজে একজন পুরুষ ক্যাডেট ও একজন মহিলা ক্যাডেটকে একটি অস্ত্র ধারণ অবস্থায় দেখা যায়। যার মাধ্যমে দেশ রক্ষায় ও অন্যান্য সকল কর্মে নারী পুরুষের একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দৃশ্যমান। যে তরুন প্রজন্মকে দিয়ে সাম্যের বিজয় পতাকা উড়ানোর অভিপ্রায়ে বি.এন.সি.সি-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল আজও তা চলমান। আর আমাদের এ যাত্রা চলবেই। যে মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যের কথা বলছি, আমাদের আদর্শের কথা বলছি, আমাদের সংকল্পের কথা বলছি সেই সময়টি আমাদের জাতীয় জীবনে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

বি.এন.সি.সি. এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন দূর্যোগপূর্ণ অবস্থা মোকাবেলা করার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। এছাড়া এর কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে। এগুলো হচ্ছে –
 ছাত্র/ ছাত্রী তথা যুব সমাজের নৈতিক চরিত্রের উন্নতি সাধন, তাদের মধ্যে নৈতিক চরিত্রের/ নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টি করা, ত্যাগ স্বীকারের মনোভাব গড়ে তোলা এবং পরস্পরের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা।
 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্রদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া।
 উন্নয়ন কাজ ও দূর্দিনে সুশৃঙ্খল স্বেচ্ছাসেবী সৃষ্টি করা।
 বহিঃশত্রুর আক্রমনের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলা।
 দেশের সকল কাজে নেতৃত্ব দানের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ নেতৃত্বের একটি সঞ্চয় বা জবংবৎাব গঠন করা।
এই উদ্দেশ্য বাস্থবায়নের জন্য পরিচালনালয়ের অধীনে তিনটি শাখা যথা- স্থল, নৌ, ও বিমান শাখা স্থাপিত হয়।
স্থল শাখা ৫টি রেজিমেন্টে বিভক্ত। এগুলো হচ্ছে-

১. রমনা রেজিমেণ্ট- ঢাকা।
২. কর্ণফুলী রেজিমেণ্ট- চট্রগ্রাম।
৩. মহাস্থান রেজিমেণ্ট- রাজশাহী।
৪. ময়নামতি রেজিমেণ্ট- কুমিল্লা এবং
৫. সুন্দরবন রেজিমেণ্ট- খুলনা।
দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ মহাস্থান রেজিমেণ্ট- রাজশাহী এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ।
এছাড়া ঢাকা, চট্র্রগ্রাম ও খুলনা ফ্লোটিলা নিয়ে নৌশাখা এবং ঢাকা, চট্র্রগ্রাম ও যশোর স্কোয়াড্রন নিয়ে বিমান শাখা গঠিত। প্রত্যেক রেজিমেণ্টে সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশন আছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে সিনিয়র ডিভিশন এবং স্কুলের ছাত্র নিয়ে জুনিয়র ডিভিশন গঠিত। বি.এন.সি.সি.-তে ভর্তির বিষয়টি ঐচ্ছিক। এখানে সবাইকে ভর্তি করা হয়না। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্লাটুনের ক্যাডেট সংখ্যানুযায়ী ভর্তি বা বাদ দেয়া হয়। সার্টিফিকেট পেতে হলে জুনিয়র ডিভিশনে ২ বৎসরে ১২০ পিরিয়ড ট্রেনিং এবং কমপক্ষে একবার বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগদান করতে হয়। আর সিনিয়র ডিভিশনে ৩ বৎসরে ১৮০ পিরিয়ড ট্রেনিং এবং কমপক্ষে একবার বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগদান করতে হয়। প্রশিক্ষণ শিবিরগুলোতে সাধারণত অস্ত্র ছাড়া ড্রিল, অস্ত্রসহ ড্রিল, অস্ত্র ট্রেনিং, ফিল্ড ক্র্যাফট, ড্রিল, শরীর চর্চা, অস্ত্র ও ম্যাপ প্রশিক্ষণ, প্রেষণা, বক্তৃতা দেয়ার গুণাবলী প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া নিয়মিত সেনাবাহিনীর সাথে সীমিত সংখ্যক ক্যাডেট শীতকালে ১ সপ্তাহের জন্য এক্সারসাইজ করতে পারে।

আমরা যদি একটু পিছনে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব বাঙালির অহংকার ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বি.এন.সি.সি. বা তৎকালীন টঙঞঈ এর ভূমিকা কম নয়। ১৯৭১ সালে পাক সেনাবাহিনীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে টঙঞঈ এর সদস্যবৃন্দ এক অনন্য ভূমিকা পালন করে। বহু অফিসার ও ক্যাডেট সক্রিয়ভাবে মুক্তিচযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে টঙঞঈ-এর জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করে। এ প্রয়োজনীয় মূহূর্তে তারা প্রমাণ করেন যে, দেশপ্রেমিকের রক্তই স্বাধীনতা বৃক্ষের বীজস্বরূপ। বর্তমানেও বি.এন.সি.সি.বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ করে আসছে। এরমধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপন, স্বেচ্ছায় রক্ত- দান, বন্যার্তদের সাহায্য প্রদান, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এবং স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন দীর্ঘপরিসরের খেলাধুলায় নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। উদাহরণস্বরূপ আমরা সিডর কিংবা সাভারে রানা প্লাজার কথা উল্লেখ করতে পারি।

দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে বিএনসিসি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে।
শরীর চর্চা শিক্ষক জনাব শাহিনা আকতার বানু ২০০৫ সালে প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে এ প্লাটুন থেকে ক্যাডেট নুসরাত জাহান নোভা শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য মনোনীত হয়। ২০১১ সালে অঞঈ তে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট নির্বাচিত হয় রাফাত রাজী তৃষ্ণা। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা সফর করে ক্যাডেট রাহাত আরা রিস্তি। ২০১৩ সালে রূপ রাণী সাহা বৃষ্টি ভারত সফরের জন্য মনোনীত হলেও পরীক্ষার কারণে অংশগ্রহণ করতে পারে নি। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য রাজশাহীতে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করে জান্নাতুল ফেেেদৗস। ২০১৪ সালে এ প্লাটুনের ক্যাডেট বৃষ্টি রহমান ও পিংকী আরা জাতীয় প্যারেডে অংশগ্রহণ করে।

নোটিশ বোর্ড